Subscribe Us

header ads

চেয়ারে বসে নামায আদায়ের বিধান ও পদ্ধতি। পর্ব ০১

 এটিও পড়ুন...চেয়ারে বসে নামায আদায়ের বিধান ও পদ্ধতি। পর্ব ০২ 

মানুষের জীবন-মরণ সুস্থতা-অসুস্থতা সবকিছু আল্লাহ্তাআলার হাতে আর বান্দার সাধ্যনুযায়ী সর্ব অবস্থায় আল্লাহ্তাআলার স্মরণ করা ও তার এবাদত করা জরুরী এজন্য সুস্থতার সময়ের এবাদত কেমন হবে এবং অসুস্থ অবস্থার এবাদত কেমন হবে? এবিষয়গুলো জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অতিআবশ্যক এক সময় তো এমন ছিল যে মসজিদে চেয়ার ও টুল নিয়ে আসা এবং সেখানে বসে বসে নামায আদায় করার কল্পনাও করা যেতনা কিন্তু বর্তমান সময়ে চেয়ারে বসে নামায আদায়কারীর সংখ্যা এতো বেশি যে, তা দেখে খুব আশ্চর্য লাগে এদের মধ্যে কেউ কেউ ওযরের কারণে চেয়ারে নামায পড়ে আবার কেউ কেউ কোন ওযর ছাড়াই নিছক আরামের জন্য চেয়ারে বসে নামায আদায় করে কোন মাযুরের জন্য চেয়ারে বসে নামায করার অনুমতি রয়েছে? আর কার জন্য চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামাযই হবেনা? সেবিষয়েই নিম্নে আলোচনা করা হলো     

কোন ব্যক্তি যদি এমন হয় যে, সে রুকু-সেজদা এর কোন রুকনই আদায় করতে পারেনা, তবে জমিনে বসে নামায আদায় করতে সক্ষম, তাহলে সে বসে বসে যেভাবে সহজ হয় সেভাবে ইশারায় নামায আদায় করবে। তবে তাশাহহুদের বৈঠকে যেভাবে বসা হয় সেভাবে বসা উত্তম। এমন অপারগ ব্যক্তিদের জন্য চেয়ারে বসে নামায পড়া জায়েয আছে তবে চেয়ারে বসে না নামায পড়াই উত্তম। আর রুকু-সেজদা করতে পারে এমন ব্যক্তি যদি চেয়ারে বসে নামায আদায় করে তাহলে তার নামাযই হবে না।  

কোন ব্যক্তি যদি এমন হয় যে, সে জমিনে বসে থাকতে পারেনা অথবা জমিনে বসে নামায আদায় করতে খুবই কষ্ট হয়, তাহলে এমন ব্যক্তিরা যদি জমিনে বসে কোন জিনিসের সাথে হেলান দিয়ে নামায পড়তে পারে তাহলে তাদের জন্য এমনভাবে নামায আদায় করাই উত্তম। তবে এমন অপারগ ব্যক্তিদের জন্যও চেয়ারে বসে নামায আদায় করার সুযোগ আছে।

কিন্তু ইশারায় নামায আদায়কারীদের জন্যও সম্ভব হলে চেয়ার ব্যবহার না করাই উত্তম এমনকি উচিৎও না। কারণ এমন ব্যক্তিদের জন্য জমিনে বসে নামায আদায় করাই উত্তম এবং এটিই সুন্নত পদ্ধতি। কেননা সাহাবায়ে কেরাম রা. এবং পরবর্তী ফিক্বহের ইমামগণ র. এই পদ্ধতিতেই নামায আদায় করার মত ব্যক্ত করেছেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ সা. যে তিন যুগকে সোনালী ও সর্বত্তোম যুগ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন তাদের সময়ও চেয়ারে বসে নামায আদায় করার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না। অথচ সে যুগগুলোতেও আমাদের যুগের মত অসুস্থ ব্যক্তিও ছিল চেয়ারও ছিল। তাই এই বিষয়টি বিবেচনা করে হলেও ইশারায় নামায আদায় করার ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব চেয়ার ব্যবহার না করাই উচিৎ।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,

يصلي المريض قائماً فإن نالته مشقة صلى جالساً فإن نالته مشقة صلى نائماً يومئ برأسه فإن نالته مشقة سبح

অর্থ: অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে। যদি দাঁড়িয়ে পড়তে কষ্ট হয় তাহলে বসে বসে নামায আদায় করবে। যদি বসে পড়তে কষ্ট হয় তাহলে শুয়ে শুয়ে মাথা দিয়ে ইশারা করে নামায আদায় করবে। আর যদি এভাবে নামায পড়তেও কষ্ট হয় তাহলে তাসবীহ পড়বে। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ ২/৩৪৮, হাদীস: ২৮৯৭ দারুল ফিকর, আল-মুজামুল আওসাত ৩/১০৩, দারুল কুতুবিল ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত)  

আল্লামা বদরুদ্দী আইনী রহ. বলেন,

  وكذا إذا عجز عن القعود وقدر على الاتكاء والاستناد إلى إنسان أو إلى حائط أو إلى وسادة لا يجزئه إلا كذلك، ولواستلقى لا يجزئه.

অর্থ: যদি অসুস্থ ব্যক্তি নিজ ক্ষমতায় বসতে অপারগ হয়, কিন্তু কোন বস্তুর সাথে ঠেস লাগিয়ে অথবা দেয়াল বা কোন মানুষ বা বালিশের সাথে হেলান দিয়ে বসতে পারে, তাহলে তাকে সেভাবেই নামায আদায় করতে হবে। এই অবস্থায় যদি শুয়ে শুয়ে নামায আদায় করে তাহলে তা বৈধ হবে না। (আল-বেনায়া শরহে হেদায়া ২/৬৩৫, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, আল-বাহরুর রায়েক২/১৯৮ মাকতাবায়ে যাকারিয়া, দেওবন্দ, ২/১২১ দারুল কিতাবিল ইসলামী)  

দাড়াতে সক্ষম নয় তবে রুকু সেজদা করতে সক্ষম এমন ব্যক্তির নামায

যে ব্যক্তি ভালভাবে দাড়িয়ে থাকতে পারেনা কিন্তু রুকু সেজদা করতে পারে, এমন ব্যক্তি যদি লাঠি, দেয়াল বা কোন বস্তুর সাথে হেলান দিয়ে কিয়াম বা নামাযের দাড়ানোর সময়টুকু দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তাহলে এমন ব্যক্তির জন্য লাঠি, দেয়াল বা কোন কিছুর উপর হেলান দিয়েই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে হবে

এব্যপারে উলামায়ে কেরাম ফতোয়ায়ে আলমগীরীতে কিছু ফতোয়া উল্লেখ করেছেন  

  وَلَوْ قَدَرَ عَلَى الْقِيَامِ مُتَّكِئًا الصَّحِيحُ أَنَّهُ يُصَلِّي قَائِمًا مُتَّكِئًا وَلَا يُجْزِيهِ غَيْرُ ذَلِكَ لَوْ قَدَرَ عَلَى أَنْ يَعْتَمِدَ عَلَى عَصًا أَوْ عَلَى خَادِمٍ لَهُ فَإِنَّهُ يَقُومُ وَيَتَّكِئُ، كَذَا فِي التَّبْيِينِ.     

অর্থ: সঠিক মত হলো, অসুস্থ ব্যক্তি যদি কোন বস্তুর উপর ভর দিয়ে অথবা লাঠি বা তার সেবকের কাধে ভর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে পারে, তাহলে সে সেভাবেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবেএছাড়া অন্য কোনভাবে (বসে বা চেয়ারে) নামায আদায় করা বৈধ হবে না। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/১৩৬, দারুল ফিকর, বৈরুত)  

ইমাম আবূ জাফর হিন্দুওয়ানী রহ. বলেন,

إذَا قَدَرَ عَلَى بَعْضِ الْقِيَامِ يَقُومُ ذَلِكَ وَلَوْ قَدْرَ آيَةٍ أَوْ تَكْبِيرَةٍ ثُمَّ يَقْعُدُ وَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ خِفْت أَنْ تَفْسُدَ صَلَاتُهُ هَذَا هُوَ الْمَذْهَبُ وَلَا يُرْوَى عَنْ أَصْحَابِنَا خِلَافُهُ

অর্থ: যদি (অসুস্থ ব্যক্তি) অল্প কিছু সময় দাড়াতে পারে, তাহলে ততটুকু সময়ই দাঁড়াবে। যদিও তা এক আয়াত বা এক তাকবীর পরিমাণ হোক। অতপর (দাঁড়িয়ে থাকতে না পারলে) বসতে পারবে। যদি এমনটি না করে তাহলে আমি তার উক্ত নাময বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করছিআর এই মতটিই সঠিক। আমাদের ফুকাহায়ে কেরামদের থেকে এর বিপরিত অন্য কোন মত বর্ণনা করা হয়নি। (আল-বাহরুর রায়েক ২/১২১, দারুল কিতাবিল ইসলামী, ২/১৯৮, মাকতাবায়ে যাকারিয়া, দেওবন্দ) 

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন প্লিজ!   

والله سبحانه وتعالى أعلم

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ