Subscribe Us

header ads

শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন বৈধ নাকি অবৈধ?

১২ই রবিউল আউয়াল ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.)

শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন 

বৈধ নাকি অবৈধ?  

মীলাদ শব্দের শাব্দিক অর্থ হল, জন্ম, জন্ম তারিখ বা জন্মদিন   

পরিভাষায় রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা করাকে মীলাদের মজলিস বা মীলাদের মাহফীল বলে  

তবে বর্তমানে আমাদের দেশে বা সমাজে মীলাদ মাহফীল বলতে ঐ অনুষ্ঠানগুলোকে বুঝায় যেখানে নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলোর কোনটি পাওয়া যায়

  1. ·        জাল রেওয়ায়েত দিয়ে তাওয়ালূদ পাঠ করা
  2. ·        রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর প্রতি প্রশংসামূলক কাসীদা গাওয়া
  3. ·        হাদীসে বর্ণিত নেই এমন দুরূদ উচ্চস্বরে সবাই একসাথে পাঠ করা
  4. ·        রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) কে হাযির নাযীর মনে করে কিয়াম করা
  5. ·        রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) কে আলিমুল গাইব সাব্যস্ত করা ইত্যাদি


মীলাদ মাহফীলের বিধান

·        প্রচলিত মীলাদ মাহফীল বিদআত

·        প্রকৃত মীলাদ মাহফীল মুস্তাহাব। 

প্রকৃত মীলাদ মাহফীল ও মুস্তাহাব মীলাদের মজলিসের জন্য শর্ত

আল্লামা রশীদ আহমাদ গাংগুহী সাহেব তাঁর ফতোয়ায়ে রশীদিয়াতে উল্লেখ করেন

مجس مولود مجس خیر و برکت ہے۔ در صورتیکہ ان قیودات مذکورہ سے خالی ہو فقط۔

·        بلا قید وقت معین۔

·        و بلا قیام۔

·        و بغیر روایت موضوع۔

অর্থ: মীলাদের মজলিস অনেক বরকত ও পূণ্যের মজলিস তবে উল্লেখিত শর্তগুলো থেকে মুক্ত হওয়া জরুরী

  1. ·        মজলিসটি নির্দিষ্ট সময়েই না হওয়া।
  2. ·        উক্ত মজলিসে কিয়াম না করা। 
  3. ·        সেই মজলিসে বানোয়াট কাহিনী না বলা। ফতোয়ায়ে রশীদিয়া, কিতাবুল বিদআত পৃ. ১১৪

প্রচলিত মীলাদ মাহফীল বিদআত হওয়ার পিছনে কিছু কিছু কারণ রয়েছে। যথা:-

  1. ·        প্রচলিত মীলাদ মাহফীল রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) ও উত্তম তিন যুগের কোন যুগেই ছিলনা।
  2. ·        মজলিসটি নির্দিষ্ট সময়েই হওয়া।   
  3. ·        জাল রেওয়ায়েত দিয়ে তাওয়ালূদ পাঠ করা
  4. ·        রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর প্রতি প্রশংসামূলক বানোয়াট কাসীদা গাওয়া  
  5. ·        হাদীসে বর্ণিত নেই এমন দুরূদ উচ্চস্বরে সবাই একসাথে পাঠ করা
  6. ·        রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) কে হাযির নাযীর মনে করে কিয়াম করা
  7. ·        রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) কে আলিমুল গাইব সাব্যস্ত করা ইত্যাদি


প্রচলিত বিদআত মীলাদ মাহফীলের বিরোধিতাকারীদেরকে রাসূলের প্রতি মুহাব্বত ও ভালবাসা নেই এমন অপবাদ দেওয়া স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর হাদীস ও সুন্নাহের পরিপন্থী কেননা রাসূল (সা.) কে ভালবাসার অর্থ হল, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর সুন্নতকে ভালবাসা রাসূল (সা.) যা করেননি, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) যা করেননি, মুজতাহিদ ইমামগণ যার ব্যাপারে বৈধতা প্রদান করেননি এমন বিদআত আমল করার মাধ্যমে প্রিয় নবী (সা.) এর ভালবাসা পাওয়া যাবেনা বরং এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর অভিসম্পাত ও লানত অর্জিত হবে  

কোন জিনিসের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর ভালবাসা অর্জন করা যাবে? এই বিষয়ে হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত স্বয়ং রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন:-

مَنْ أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ.( سنن الترمذي، بَاب مَا جَاءَ فِي الْأَخْذِ بِالسُّنَّةِ وَاجْتِنَابِ الْبِدَعِ، الرقم: 2678 دار إحياء التراث العربيبيروت)

অর্থ: যে আমার সুন্নতকে জিন্দা করে সে আমাকে ভালবাসে। আর যে আমাকে ভালবাসে সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে।(সূনানে তিরমিযী, হাদীস: ২৬৭৮)  

আর কেউ বিদআত আবিস্কার করলে বা আবিস্কৃত বিদআত অনুযায়ী আমল করলে তাঁর কি পরিণাম হবে সে ব্যাপারে হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেন:-

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ.( صحيح البخاري، باب إذا اصطلحوا على صلح جور فالصلح مردود الرقم: 2550 دار ابن كثير ، اليمامةبيروت)

অর্থ: কেউ আমাদের শরীয়তে নেই এমন কোন বিষয় অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত।( সহীহ বুখারী, হাদীস: ২৫৫০/২৬৯৭)

অপর একটি হাদীসে আব্দুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামী ও হুজর ইবনে হুজর (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) ইরশাদ করেছেন:-

فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ.( سنن أبي داود، باب في لزوم السنة، الرقم: 4607 دار الفكر)

অর্থ: আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে তাঁরা অচিরেই অনেক মতনৈক্য দেখবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নত ও হেদায়েতপ্রাপ্ত খলীফাদের সুন্নতের অনুসরন করবে। এবং তা মাড়ির দাত দিয়ে কামড় দিয়ে আকড়ে ধরে থাকবে। নবআবিস্কৃত বিষয়াবলী থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেক নবআবিস্কৃত বিষয় বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা।(সুনানে আবু দাঊদ, হাদীস: ৪৬০৭)

 

বিদআতীদের প্রচলিত মীলাদ মাহফীলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর যুগ থেকে নিয়ে ৬ষ্ট শতাব্দী পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কোন সাহাবী (রা.), তাবেঈ (রহ.), তাবে তাবেঈন (রহ.), মুহাদ্দিসীনে কেরাম বা কোন আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও ফক্বীহগণ (রহ.) এই বিদআতী মীলাদ মাহফীলের প্রচলন ঘটাননি।

সর্বপ্রথম ৬০৪ হিজরীতে এই প্রচলিত বিদআতী মীলাদ মাহফীলের সূচনা করার আদেশ প্রদান করে মুসেল শহরের অপচয়ী, ধর্মীয় ব্যাপারে উদাসীন ও মনগড়া মতবাদ প্রতিষ্ঠাকারী বাদশা মুজাফফরুদ্দীন কুকরী। আর এই বিদআত আবিস্কার করার ক্ষেত্রে বাদশাকে সহযোগিতা করে ভন্ড বিদআতী দরবারী আলেম ও দুনিয়ালোভী মৌলভী উমর ইবনে হাসান।

রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর জন্মকে কলঙ্কিত করে যে বাদশা মীলাদুন্নবী নামে এই বিদআতকে আবিস্কার করল তাঁর চরিত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইমাম আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ মিসরী বলেন:-

كان ملكا مسرفا يأمر علماء زمانه أن يعملوا بإستنباطهم وإجتهادهم

অর্থ: সে ছিল অপচয়ী বাদশা, তাঁর যুগের আলেমদেরকে তাদের নিজস্ব ইজতেহাদ করা ও নিজেদের উদ্ঘাটন করা মাসআলার উপর আমল করার নির্দেশ দিতেন।

ويحتفل لمولد النبي صلى الله عليه وسلم في الربيع الأول. وهو أول من أحدث من الملوك هذا العمل.

অর্থ: আর সেই রবিউল আউয়ালে মীলাদুন্নবীর মাহফীলের আয়োজন করে। এবং সেই সর্বপ্রথম বাদশা যে এই বিদআতী আমলকে আবিস্কার করে।

সে যে কি পর্যায়ের অপচয়ী বাদশা ছিল তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লামা যাহাবী (রহ.) বলেন:-

كان ينفق كل سنة على مولد النبي صلى الله عليه وسلم نحو ثلاث مأة ألف.

অর্থ: সে প্রত্যেক বছর মীলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে তিন লক্ষ দিনারের মত খরচ করত। বি. দ্র. আর ১ দিনারে প্রায় ২৭৬.৫৬ টাকা। সুতরাং ৩ লক্ষ দিনারের সাথে ২৭৬.৫৬ টাকা গুণ করলে ৮ কোটি ২৯ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা হয়। তো এখান থেকেই বুঝা যায় সামান্য একটি বিদআতের অনুষ্ঠান করতে সে এতো টাকা ব্যয় করে। না জানি অন্য সময় অন্যান্য অনুষ্ঠান করতে কি পরিমাণ রাষ্ট্রীয় তহবিল নষ্ট করে ফেলেছে।

এই বিদআতী কার্য পরিচালনার জন্য বাদশাকে সহযোগিতা করে যে ভন্ড বিদআতী দরবারী আলেম ও দুনিয়ালোভী মৌলভী উমর ইবনে হাসান সম্পর্কে আল্লামা ইবনে হাজার আসকলানী (রহ.) বলেন:-

كان كثير الوقيقة في الأيمة وفي السلف من العلماء، خبيث اللسان، أحمق، شديد المكر.

অর্থ: সে পূর্বসুরী আলেম ও ইমামদের মধ্যে অনেক বেশি ভীরু, নিকৃষ্ট জবানের অধিকারী, নির্বোধ ও চরম ধোঁকাবাজ ছিল।  

তাঁর মিথ্যা ও দুর্বলতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লামা ইবনে নাজ্জার (রহ.) বলেন:-

رأيت الناس مجتمعين على كذبه وضعفه.

অর্থ: আমি মানুষদেরকে তাঁর মিথ্যাবাদীতা ও তাঁর দুর্বলতার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করতে দেখেছি।(লিসানুল মীযান ৫/২৮৬)

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা গেল যে, এই বিদআতী মীলাদ মাহফীলের প্রচলনকারীদের একজন হল, অপচয়ী, প্রতারক ও ধূর্তবাজ বাদশা। আর অপরজন স্বার্থবাজ, ভন্ড বিদআতী দরবারী আলেম ও দুনিয়ালোভী মৌলভী।

 

প্রচলিত মীলাদুন্নবী সম্পর্কে উলামায়ে কেরামদের বক্তব্য।

রবিউল আউয়ালে ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করা যে বিদআত এব্যাপারে শাইখুল হাদীস আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন:-

ما أحدثوا من البدع ..... ما يفعلونه في الشهر الربيع الأول من المولد.

অর্থ: যত রকমের বিদআত আবিস্কার হয়েছে তাঁর মধ্যে একটি হল, রবিউল আউয়াল মাসে মীলাদুন্নবী নামে তাঁরা যে কাজগুলো করে তা।

আল্লামা আব্দুর রহমান মাগরিবী (রহ.) তাঁর ফতোয়ায় উল্লেখ করেন:-

إن عمل المولد بدعة لم يقل به ولم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم والخلفاء والأيمة.

অর্থ: নিশ্চয় মীলাদুন্নবীর আমলটি বিদআত। এই ব্যাপারে রাসূল (সা.) এর কোন উক্তি নেই। এমনকি এই আমলটি রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.), খলীফাগণ ও কোন ইমামগণ করেননি।

আল্লামা আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ মিসরী (রহ.) এই বিদআতী আমলের নিন্দা করে বলেন:-

قد إتفق العلماء بذم هذا العمل.

অর্থ: আলেমগণ এই কাজের নিন্দা করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

 

রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর মীলাদে রাসূলের জন্য কিয়াম করা বৈধ নয়

প্রচলিত বিদআতে পূর্ণ মীলাদুন্নবীতে কিয়াম করা না-জায়েয এমনকি সাধারণ অবস্থাতেও রাসূল্লুল্লাহ্‌ (সা.) তাঁর জন্য কেউ কিয়াম করলে তা অপছন্দ করতেন হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন:-

لَمْ يَكُنْ شَخْصٌ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَكَانُوا إِذَا رَأَوْهُ لَمْ يَقُومُوا لِمَا يَعْلَمُونَ مِنْ كَرَاهِيَتِهِ لِذَلِكَ.( سنن الترمذي، باب  ما جاء في كراهية قيام الرجل للرجل الرقم: 2754 دار إحياء التراث العربيبيروت)

অর্থ: সাহাবায়ে কেরামদের নিকটে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর চেয়ে অধিক প্রিয় মানুষ আর কেউ ছিলেন না। অথচ তাঁরা তাকে দেখে দাঁড়াতেন না। কেননা তাঁরা জানতেন যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এটা অপছন্দ করেন(সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ২৭৫৪)  

 

বিদআতীদের আকিদা হল, মিলাদুন্নবীর মাহফীলে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) স্বশরীরে উপস্থিত হন বিধায় তাঁর জন্য তাঁর সম্মানে কিয়াম করতে হবে। অথচ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর হাদীসে বর্ণিত আছে যে, কেউ তাঁর জন্য দুরূদ পাঠ করলে সেই দুরূদ রাসূলের দরবারে পৌছানোর জন্য আলাদা ফিরিশতা নিযুক্ত করা রয়েছে। হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) ইরশাদ করেছেন:-

من صلى علي عند قبري سمعته و من صلى علي نائيا أبلغته.( شعب الإيمان، الرقم: 1583 دار الكتب العلميةبيروت)

অর্থ: যে কেউ আমার কবরের কাছে এসে আমার উপর দুরূদ পাঠ করে আমি তা শুনি। আর কেউ দূরে অবস্থানরত অবস্থায় আমার উপর দুরূদ পাঠ করলে আমার নিকট তা পৌছানো হয়।(শুআবুল ঈমান, হাদীস: ১৫৮৩)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেছেন:-

إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ.( سنن النسائي، باب السلام على النبي صلى الله عليه و سلم الرقم: 1282 مكتب المطبوعات الإسلاميةحلب)

অর্থ: আল্লাহ্‌ তাআলার এমন কিছু ফিরিশতা রয়েছে, যারা পৃথিবীতে বিচরণ করে তাঁরা আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌছিয়ে দেয়।(সুনানে নাসাঈ, হাদীস: ১২৮২)

 

বিদআতীদের আরেকটি আকিদা হল, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) গায়েব জানেন। আল্লাহ্‌ তাআলা যেমন সবকিছু জানেন, সব বিষয়ে জ্ঞান রাখেন তদ্রূপ রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর জন্যও তাঁরা এই সিফাতকে খাস করে দিয়েছে। অথচ অসংখ্য আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন যে, গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলার জন্যই খাস। এই সিফাতের মধ্যে আল্লাহ্‌ তাআলা কাউকে শামিল করেননি। যেমন আল্লাহ্‌ তাআলার বানী:-

قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ.(سورة النمل: 65)

অনুবাদ: বল, আল্লাহ্‌ ছাড়া আসমান ও জমিনের কেউ গায়েব জানেনা। এবং তাঁরা জানেনা যে, কখন তাঁরা পুনরুজ্জীবিত হবে।(সূরা নামল: ৬৫)

قُلْ لَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ.(سورة الأنعام: 50)

অনুবাদ: বল, আমি তোমাদেরকে বলিনা যে, আমার নিকটে আল্লাহ্‌ তাআলার ধনভান্ডার আছে। আর আমি গায়েবও জানিনা। আমি তোমাদেরকে এমনও বলিনা যে, আমি ফিরিশতা।(সূরা আনআম: ৫০)

قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ.(سورة الأعراف: 188)

অনুবাদ: বল, আমি আমার নিজের কল্যাণ ও অকল্যাণ সাধনের ক্ষমতা রাখি না। তবে আল্লাহ্‌ তাআলা যা চান তাই হয়। আর যদি আমি গায়েব জানতে পারতাম তাহলে অনেক মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে কোন অমঙ্গল আমাকে স্পর্শ করতে পারত না।(সূরা আ’রাফ: ১৮৮)   

وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ.( سورة الأنعام: 59)

অনুবাদ: তাঁর কাছেই গায়েবের চাবিকাঠি আছে। তিনি ছাড়া কেউ এগুলো জানেনা।(সূরা আনআম: ৫৯)

 

বিদআতীদের আরেকটি আকিদা হল, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) হা্যির নাযীর অর্থাৎ সবজায়গায় বিরাজমান সবকিছু দেখেন। তাঁরা কিয়াম করার সময় এই ধারনা করে কিয়াম করে যে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) তাদের মাঝে হাযির হয়েছেন তাই তাঁর সম্মানে দাঁড়ানো ওয়াজিব। তো রাসূল (সা.) যে হাযির নাযির নন সে বিষয়ে স্বয়ং আল্লাহ্‌ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন:-  

وَمَا كُنْتَ بِجَانِبِ الْغَرْبِيِّ إِذْ قَضَيْنَا إِلَى مُوسَى الْأَمْرَ وَمَا كُنْتَ مِنَ الشَّاهِدِينَ.(سورة القصص: 44)

অনুবাদ: যখন আমি মূসাকে নির্দেশনামা দিয়েছিলাম তখন তুমি পশ্চিমপ্রান্তে ছিলেনা। এবং তুমি অবলোকনকারী হিসেবেও ছিলে না।(সূরা কাসাস: ৪৪)    

وَمِمَّنْ حَوْلَكُمْ مِنَ الْأَعْرَابِ مُنَافِقُونَ وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَرَدُوا عَلَى النِّفَاقِ لَا تَعْلَمُهُمْ نَحْنُ نَعْلَمُهُمْ.( سورة التوبة: 101)

অনুবাদ: আর তোমাদের আশেপাশে যে সকল দেহাতী (গ্রাম্যলোক) আছে তাদের মধ্যেও মুনাফিক আছে এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কিছু লোক অতিমাত্রায় মুনাফিকীতে লিপ্ত আছে। তুমি তাদেরকে জান না। আমি তাদেরকে জানি।(সূরা তাওবা: ১০১)

সুতরাং উক্ত আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে জানতে পারলাম রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) সব জায়গায় হাযির নাযীর নন কেননা রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) যদি সব জায়গায় হাযির হতে পারতেন তাহলে তিনি সমস্ত মুনাফেকদের মুনাফিকী, কাফেরদের ষড়যন্ত্র সবকিছু জানতে পারতেন। অথচ এমনটি হয়নি।  

والله سبحانه وتعالى أعلم

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য