Subscribe Us

header ads

কুরআন ও হাদীসের আলোকে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”


ইসলামের কালিমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” কুরআন, সহীহ হাদীস ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমানিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এক শ্রেণীর মানুষ অপপ্রচার করে যে, কালিমায়ে তয়য়্যিবা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। অথচ এটা কুরআন ও হাদীসের অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত।      

কুরআনের আলোকে
. (ক) আল্লাহ তাআ’লা বলেন:-
وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَّهُمَا
অনুবাদ: প্রাচীরের ব্যাপার, সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন।(সূরা কাহাফ: ৮২)
 
(খ) রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:-
  كان لوحا من ذهب مكتوبا ...... لا إله إلا الله محمد رسول الله
অর্থ: নিশ্চয় গুপ্ত ধনটি স্বর্নের একটি ফলক ছিলতাতে লেখা ছিল যথা: ......... “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”(তাফসীরে কুরতুবী ৬/৩৭১, তাফসীরে আলুসী ১১/৩৬৬, তাফসীরে আবী সাঊদ /২৮০, তাফসীরে খাযেন /৩২৮)  

২. (ক) আল্লাহ তায়ালা বলেন:-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا
অনুবাদ: হে মুমিগণ তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর করবে, তখন যাচাই বাছাই করে দেখবে কেউ তোমাদেরকে সালাম দিলে পার্থিব জীবনের উপকরণ লাভের আকাঙ্ক্ষায় তাকে বলবে না যে, তুমি মুমিন নও(সূরা নিসা.৯৪)

আয়াতটির তাফসীর
ইমাম কুরতুবী, ইমাম তবারী, ইমাম বাইযাবী, ইমাম মাহমুদ আলুসী, ইমাম রাযী প্রমুখ মুফাসসিরগণ উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন রাসূল (সা.) একটি দল পাঠালেন বনী যমরার দিকে, সেই দলে হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) ছিলেন তারা মিরদাস নামক এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করলেন ...... সে তাদের দিকে  অগ্রসর হয়ে  বললেন,
السلام عليكم اشهد ان لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وان محمدا رسول الله   
অতপর উসামা তার উপর ক্ষুব্ধ হলেন এবং তাকে হত্যা করে ফেললেন... একদল সাহাবায়ে কেরাম বললেন হে আল্লাহর রাসূল! আপনি উসামার ব্যপারে কি বলেন! একজন ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাত করে বলল  “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ” আর সে তার উপর আক্রমন করল এবং হত্যা করে ফেলল(তাফসীরে কুরতুবী ৩/৪৪৩, তাফসীরে ওয়াসীত ৩/২৬৪, তাফসীরে তবারী /৭৮, তাফসীরে কাবীর /৩৪৩, তাফসীরে বাগভী /২৬৮, তাফসীরে বাইযাবী /৮৮৮, তাফসীরে রুহুল মাআনী /১৮৭)  

(খ) হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূল (সা.) যখন অনারবদের নিকট চিঠি লেখার ইচ্ছা করলেন তখন তাকে বলা হল তারা সিলমহর বিহীন চিঠি গ্রহন করে না, ফলে রাসূল (সা.) একটি আংটি তৈরি করলেন এবং আংটির পাথরের উপর অঙ্কন করলেন  لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ.(তাফসীরে কুরতুবী ১৩/১৯৩)  

৩. আল্লাহ তায়ালা বলেন:-
وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا   
অনুবাদ: এবং তাদের জন্য তাকওয়ার বানী অপরিহার্য করে দিলেন।(সূরা ফাতাহ আয়াত ২৬)

# ইমাম ইবনে কাসীর রহ. বলেন তাকওয়ার বানী হল لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ. কাফেররা এবং মুশরিকরা হুদাইবিয়ার দিন একালেমার ব্যপারে অহংকার প্রদর্শন করেছিল (তাফসীরে ইবনে কাসীর /৩৪৮ ইফা, ১০/৩৩৯, তাফসীরে আলুসী ১৯/২২৭, তাফসীরে বাগভী /৩২২)

# হযরত আতা রহ. বলেন তাকওয়ার বানী হল لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ.  (লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ) (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৭/৩৪৬, যাদুল মুয়াসসার ৫/৩৯২, তাফসীরে তবারী ২২/২৫৫, তাফসীরে কুরতুবী ৯/২২৪)  
                                                           
. আল্লাহ তায়ালা বলেন:-  
قُلْ يَتَوَفَّاكُم مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ
অনুবাদ: বল, ‘তোমাদেরকে মৃত্যু দেবে মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর তোমাদের রবের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে(সূরা সাজদাহ আয়াত ১১)
ইমাম জাফর (রহ.) বলেন যে মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) নামাজের সময় মানুষের পর্যবেক্ষন করতে থাকে, যখন মৃত্যুর সময় তাদের নিকট উপস্থিত হয়, সেই ব্যক্তি যদি যথারীতি নামায আদায় করে থাকে তাহলে ফেরেশতা তার নিকটবর্তী হয়ে শয়তানকে তার নিকট থেকে অপসরণ করে ফেরেশতা তাকে  لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ.  এর তালকীন করতে থাকে(তাফসীরে ইবনে কাছির ৬/৩৮৫)

হাদিস সুন্নাহর আলোকে কালেমায়ে তায়য়্যিবা    
. হযরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন হযরত আবু জ্বর গিফারি তার চাচাত ভাই নুয়াঈম গিফারি আলী (রা.) নবীজির সন্ধানে একত্রে বের হলাম, রসূলুল্লাহ (সা.) পাহাড়ের একটি গুহায় নিজেকে গোপন করে ছিলেন, হজরত আবু জ্বর গিফারি (রা.) তাকে বললেন,
 فقال له أبو ذر: يا محمد، أتيناك لنسمع ما تقول، قال: أقول لا إله إلا اللَّه محمد رسول اللَّه، فآمن به أبو ذر وصاحبه.
অর্থ: হে মুহাম্মাদ আপনি কি বলেন তা শোনার জন্যে আমরা আপনার নিকট এসেছি নবীজী (সা.) বললেন আমি তো বলেছি  لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ.একথা শুনে হজরত আবু জ্বর গিফারি (রা.) তার সাথী তার প্রতি ইমান আনয়ন করলেন। হাদীসটি সহীহ(আল ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা ৬/৩৬৫ হা. ৮৮০৯)  

সনদ বিষয়ক আলোচনা  
হাদীসটির সনদে সাহাবীসহ জন রাবি রয়েছে তারা সকলেই সিকাহ, বিশ্বস্ত ও নির্ভরযগ্য 
ক. ইউসুফ ইবনে সুহাইব, ইমাম ইবনে মাঈন, ইমাম আবু দাউদ, ইমাম যাহাবী, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন তিনি সিকাহ/বিশ্বস্ত   
# ইমাম আবু দাউদ, ইমাম নাসায়ী ও ইমাম তিরমিযী (রহ.) তার সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন(তাকরীবুত তাহজীব পৃ ৬৪২, তাহজীবুত তাহজীব ৭/২৩৯-২৪০, জীবনি নং ৯২০০)   

খ. আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা, ইমাম ইবনে মাঈন, আবু হাতেম, ইমাম ইজলী, ইমাম যাহাবী ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, তিনি সিকাহ/বিশুদ্ধ  
#ইমাম বুখারী মুসলিমসহ সিহাহ সিত্তার ইমামগণ সকলে তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন(তাহজীবুত তাহজীব ১/৩২১ জীবনি নং ৩৫৭৪,/৪২১ জীবনি নং ৩৭৫৪)

২. লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ, যতক্ষন না তারা স্বীকার করে যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”(আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহ তাআ’লার রাসূল).......(সহিহ মুসলিম ১/৩৭ইফা. ১/১০৩)

. রাসূল (সা.) বলেছেন আমি জান্নাতে প্রবেশ করে তার (জান্নাতের) কড়িকাঠে স্বর্নের দ্বারা লিখিত তিনটি চরণ দেখতে পেলাম প্রথম চরণটি হল لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ. (জামে সগীর ৮৪৯-৯১১,/১৪৬)   

. আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এর আংটির নগীনা (পাথর) ছিল হাবশি (আবিসিনিয়) যাতে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ. লেখা ছিল(ফতহুল বারি শরহে সহীহ বুখারী ৭/৫৪৭)


والله سبحانه وتعالى أعلم

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য